কি খেলে শরীরে রক্ত বাড়ে? হিমোগ্লোবিন ও আয়রন বাড়াতে উপকারী খাবার - বাংলা1আইটি

কি খেলে শরীরে রক্ত বাড়ে? হিমোগ্লোবিন ও আয়রন বাড়াতে উপকারী খাবার

 
রক্তশূন্যতা কমাতে উপকারী খাবারের তালিকা

কি খেলে শরীরে রক্ত বাড়ে? রক্তশূন্যতা কমাতে উপকারী খাবারের তালিকা 

শরীরে দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা অনেক সময় রক্তশূন্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে রক্তশূন্যতার কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। খাবারে আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন B12-এর ঘাটতি থাকলেও হিমোগ্লোবিন কমতে পারে।

তাই শরীরে রক্ত বা হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে রক্ত বাড়াতে কী কী খাবার উপকারী? ১. কলিজা 

গরু বা মুরগির কলিজায় আয়রন ও ভিটামিন B12সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। পরিমিত পরিমাণে রান্না করে খেলে এটি খাদ্যতালিকায় আয়রনের একটি উৎস হতে পারে।

২. মাছ ও মাংস 

মাছ, গরু ও মুরগির মাংসে আয়রন, ভিটামিন B12 এবং প্রোটিন পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রাণিজ খাবারের আয়রন শরীর তুলনামূলকভাবে সহজে শোষণ করতে পারে।

৩. ডিম 

ডিমে প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম খাওয়া যেতে পারে।

৪. ডাল ও ছোলা 

মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবারে উদ্ভিজ্জ আয়রন থাকে। যারা কম মাংস খান, তাদের জন্য এগুলো আয়রনের ভালো খাদ্য উৎস হতে পারে।

৫. শাকসবজি 

পালং শাকসহ বিভিন্ন গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে আয়রন ও ফোলেট পাওয়া যায়। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেলে খাদ্যতালিকা আরও পুষ্টিকর হয়।

৬. বাদাম ও বীজ 

চিনাবাদাম, তিল, কুমড়ার বীজসহ বিভিন্ন বাদাম ও বীজে আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

৭. কিশমিশ ও শুকনো ফল 

কিশমিশসহ কিছু শুকনো ফলে আয়রন পাওয়া যায়। তবে শুকনো ফলে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরিও তুলনামূলক বেশি থাকায় অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।

ভিটামিন C কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

শুধু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই যথেষ্ট নয়। খাবার থেকে আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন C সহায়ক হতে পারে।

লেবু, পেয়ারা, আমলকি, কমলা, টমেটোসহ ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, ডাল বা শাকসবজির সঙ্গে লেবুর রস যোগ করা যেতে পারে।

চা-কফি কখন খাবেন? 

খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই চা-কফি পান করলে কিছু ক্ষেত্রে খাবার থেকে আয়রন শোষণ কমতে পারে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ প্রধান খাবারের কাছাকাছি সময়ে অতিরিক্ত চা-কফি না খাওয়াই ভালো।

রক্তশূন্যতার লক্ষণ কী? 

রক্তশূন্যতা হলে কিছু মানুষের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

  • সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া 
  • দুর্বল লাগা 
  • মাথা ঘোরা 
  • ত্বক ফ্যাকাশে দেখানো 
  • শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হৃদস্পন্দন 
  • মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা 
  • দৈনন্দিন কাজে আগের তুলনায় বেশি অবসাদ 
  • অনুভব করা 

তবে এসব লক্ষণ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রক্তশূন্যতা নিশ্চিত করা যায় না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি? 

দীর্ঘদিন ধরে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ফ্যাকাশে ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে হিমোগ্লোবিন ও অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, শিশুদের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত মাসিক রক্তপাত, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বা বারবার রক্তশূন্যতার সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় আয়রনের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা 

শরীরে রক্ত বা হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক রাখতে শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ফোলেট, ভিটামিন B12, ভিটামিন C ও পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।

তবে রক্তশূন্যতার কারণ যদি আয়রনের ঘাটতি ছাড়া অন্য কিছু হয়, তাহলে শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url