গুলঞ্চ ব্যবহার বৃদ্ধি গুলঞ্চ বিশেষ উপকারী। লতাপাতা ব্যবহার। - বাংলা1আইটি

গুলঞ্চ ব্যবহার বৃদ্ধি গুলঞ্চ বিশেষ উপকারী। লতাপাতা ব্যবহার।

গুলঞ্চ ব্যবহার বৃদ্ধি গুলঞ্চ বিশেষ উপকারী। লতাপাতা ব্যবহার।

 গুলঞ্চ 

নাম : বাংলায়-গুলঞ্চ : সংস্কৃতিতে গুচী, মধুপর্ণী, অমৃত হিন্দীতে গ্যালোয়া পরিচয় গুলঞ্চের পাতা পান পাতার মত, ফুল সবুজ ও হলুদ মেশান চাল মেটে রঙ্গের। গুলখা এক ধরনের লতা। এ গাছ অপর গাছ বেয়ে উপরে উঠে। এর লতার উপরের ছালটি কাগজের মত পাতলা।


ব্যবহার বিধি ঐষধে ব্যবহার করতে হলে শুষ্ক গুলঞ্চ অপেক্ষা কাঁচা শুলকই ব্যবহার করা উচিত। কারণ ৩ পাকা গুলঞ্চ অপেক্ষা কাঁচা গুলঞ্চের পাতা ডাঁটা প্রভৃতি সমগ্র লতাই ঔষধে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

গুণ গুলঞ্চ কটু তিক্ত কথায় রসযুক্ত মধুর, বিপাক, উষ্ণ বীর্যান্বিত, লঘু, রসায়ন, অগ্নিদীপক, মল সংগ্রাহক ও বলকারক। গুলঞ্চ আমাদের দেশে কুইনাইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গুলঞ্চ সর্বপ্রকারের জ্বরের যম বললেও অত্যুক্তি হয় না। 

আময়িক প্রয়োগ  ইহা হাম, দাহ, কাশ জ্বর, কৃমি, কুষ্ঠ প্রমেহ, তৃষ্ণা, কচু, বাতরক্ত, অর্শ, শ্বাস কষ্ট, হৃদরোগ, মূত্রকৃচ্ছ ও বায়ু বিনাশক।
গুলঞ্চের3 ব্যবহার সম্বন্ধে বিশেষ কথা গুলঞ্চ যদি বৃক্ষ অর্থাৎ, নিম গাছ ইত্যাদি বেয়ে উপরে উঠে। তবে ঐ ধরনের শুল ঔষধ প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা সর্বাপেক্ষা ফলপ্রদ। তিক্ত গাছযুক্ত গুলঞ্চ যদি না পাওয়া যায় তবে অল্প গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ তেঁতুল ইত্যাদি গাছ আশ্রিত গুলঞ্চ ব্যবহার করা যায়। তিক্ত বৃক্ষ আশ্রিত গুলঞ্চ ব্যবহারে সত্বর ফল পাওয়া যায়। অল্পগুণ সম্পন্ন 

বৃক্ষ আশ্রিত গুলঞ্চের ব্যবহারে ফল পেতে কিছু বিলম্ব ঘটে। মাত্রা : (ক) ত্বক চূর্ণ তিন আনা পরিমাণ। (খ) কাথ আট তোলা পরিমাণ। 

(গ) রস এক তোলা পরিমাণ।
যে সব রোগ আরোগ্য কারক ১। পুরাতন জ্বর হলে শাকের মত গুলঞ্চ পাতা রেঁধে ভাতের সাথে আহার করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। পাঁচ তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের কাথ, পিপুল চূর্ণ ও মধুসহ এক সপ্তাহ কাল সেবন করলে পুরাতন জ্বর আরোগ্য হয়ে থাকে। 

২। নতুন জ্বর অথবা ম্যালেরিয়া জ্বর হলে এক তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের রস প্রতিদিন মধুসহ সেবন করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। ৩। বমন রোগ হলে : গুলঞ্চ লতা পেষণপূর্বক, তা ঠাণ্ডা পানিতে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিজায়ে রাখার পর ঐ পানি ছেঁকে অল্প অল্প পান করলে বমি বমি ভাব দূর হয়ে যায়। ৪। প্লীহা বড় হলে গুলঞ্চের রস একপক্ষ কাল পর্যন্ত সেবন করলে প্লীহা 

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। 

৯। হৃদরোগ হলে আধা তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের নন তিনটি গোলমরিচ উষ্ণ পানিসহ প্রতিদিন প্রাতঃকালে এক পক্ষকাল সেবন করলে হৃদরোগ বা বুকের দোষ দূর হয়। 

১০। বাতরোগ হলে  পাঁচ তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের কাথ ঠাণ্ডা অবস্থায়, ঠাণ্ডা পানিসহ প্রতিদিন সেবন করলে এক পক্ষকালের মধ্যেই বাতরোগ আরোগ্য হয়। ১১। কৃমি হলে ঃ আধা তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের রস গরম পানিসহ সেবন করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। 

১২। দীর্ঘকাল রোগ ভোগের ফলে রোগী দুর্বল হলে  গুলঞ্চের রস এক তোলা, গরুর ঘৃত এক তোলা, পুরাতন গুড় এক তোলা, মধু ও দুগ্ধসহ সেবন করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। 

১৩। কুষ্ঠ রোগ হলে : গুলঞ্চ বিশেষ উপকারী। প্রত্যহ প্রাতঃকালে এক তোলা পরিমাণ গুলঞ্চের রস মধুসহ সেবন করতে হবে। তারপর বেলা দশ ঘটিকার সময় ঘৃতসহ শালিধানের ভাত ভোজন করতে হবে এবং সয়ংকালে কেবলমাত্র দুগ্ধাপন্ন ভোজন করতে হবে। 

এরূপ এক মাসকাল কাটালে কুষ্ঠরোগ উপশম হয়। এ অবস্থায় গুলঞ্চ রস সেবন করার সময় মাছ মাংস খাওয়া যাবে না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url